আমরা
বিশ্বাস করি দৈনন্দিন খাদ্যভ্যাসের কারণে চিনি খাওয়ার পরিমাণ একটু কম রাখাই ভাল। কিন্তু মিষ্টি জাতীয় খাবার, আইসক্রিম কিংন্বা কমল পানিও খাওয়া বাদ দিলেই কী বেশি চিনি খাওয়া হচ্ছে?? কিভাবে বুঝবেন চিনি আরও কম খাওয়া দরকার কিনা? উপায় তো নিশ্চয় আছে। আপনার নিজের
শরীর আপনাকে বলে দেবে আপনি যে চিনি খাচ্ছেন তা অতিরিক্ত হচ্ছে কিনা এবং
এসব লক্ষণ যখন আপনি দেখতে পাবেন বুঝবেন দৈনিক চিনি খাওয়াটা আর কত
কমিয়ে নিয়ে আসা দরকার।
***ঠিক কতখানি চিনিকে আসলে অতিরিক্ত চিনি বলা যেতে পারে?
WHO এর পরিসংখ্যান মতে দৈনিক মাত্র ৪-৬ শতাংশ ক্যালোরি আসা প্রয়োজন চিনি থেকে। অর্থাৎ আপনার নিজের খাবারে প্রতিদিন মোটামুটি
৬ চা চামচ চিনি নিতে পারেন, এর
বেশি নয়। নিচের লক্ষণগুলো থেকে যদি মনে করেন আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চিনি
খাচ্ছেন, তাহলে ভালো
ভাবে খেয়াল করে দেখুন বাইরের কোনো খাবার যা
খাচ্ছেন তার মাধ্যমে নিজের অজান্তে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করছেন কিনা। বিভিন্ন
প্রকার সিরিয়াল, দই এমন স্বাস্থ্যকর খাবার গুলতে অতিরিক্ত চিনি থাকে। এ জন্য অতিরিক্ত
চিনি না খেয়ে প্রাকৃতিক ভাবে মিষ্টি খাবারগুলো খেতে পারেন।
১) আপনার ত্বকের অবস্থা খারাপ হচ্ছে
বেশি চিনি খাওয়া ত্বক একেবারে নষ্ট করে ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার
সাথে সাথে ব্রণের সমস্যা বাড়ে। একটু
লক্ষ করলে দেখা যাদের অনেক বেশি বা মিডিয়াম ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের খাদ্যভ্যাসে
বেশি পরিমাণে চিনি থাকে। যারা কম চিনি খান তাদের ব্রণের কোন সামান্যই থাকে।
২) দেখা যায় আপনি সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন
সকালের
নাস্তা অথবা দুপুরের
খাবারে যদি প্রচুর চিনি যুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন তবে বিকেলের আগেই আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। আপনার শরীর হাল ছেড়ে
দিতে চাইবে। খুব বেশি মাথা ব্যাথ্যাও করতে পারে। এর জন্য পরিমিত পরিমাণে
চিনি আছে এমন খাদ্যভ্যাস তৈরি করুন।
৩) আপনি ডেন্টিস্টের তিরস্কার ধনি শুনছেন
দাঁতে বেশি পরিমানে ক্যাভিটি হলেই দাঁতের ডাক্তার মনে করবেন আপনি বেশি
চিনিযুক্ত খাবার খাচ্ছেন। আমাদের মুখের মধ্যকার ব্যাকটেরিয়া
এগুলোকে ব্যবহার করে কয়েক ধরনের এসিড তৈরি
করে যার ফলে দাঁতে জিবানুর প্রভাব পড়ে। এ থেকে পরে
ক্যাভিটি তৈরি হয়।
৪) বড়ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা
১২০-৮০ রক্তচাপ থাকাকে
আমরা স্বাভাবিক বলি। কিন্তু খাদ্যভ্যাসে যদি অতিরিক্ত চিনি যুক্ত থাকলে তা বেড়ে যেতে পারে। সোডিয়াম অর্থাৎ
লবণ খাওয়া নিয়ন্ত্রণের চাইতেও চিনি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া উচিত।যার কারনে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে
পারে।
৫) দিন দিন বেড়ে যাচ্চে কোলেস্টেরল মাত্রা
রক্তে কোলেস্টেরলের
মাত্রা বাড়িয়ে দেয় অতিরিক্ত চিনি এটা আমাদের অজানা সমস্যা। চিনিই কোলেস্টেরোলের পরিমাণ
কম বেশি করে আপনার শরীর কে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।
৬) আপনি সামান্য ব্যায়ামের কারনে একেবারে শক্তিহীন হয়ে পড়েন
ব্যায়ামের জন্য শরীরকে যথাযথ জ্বালানী দেওয়া প্রয়োজন। ব্যায়াম করতে গিয়ে
যদি একেবারে সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে পরে তাহলে বুঝতে হবে আপনি হয়তো বেশি পরিমানে চিনি খাচ্ছেন। আপনি যদি ব্যায়ামের আগে বেশি চিনিযুক্ত খাবার গ্রহন
করেন বা পানীয় গ্রহণ করেন তাহলে ব্যায়ামের শেষে ভীষণ ক্লান্তি বোধ
করবেন।
৭) হঠাৎ ওজন বেড়ে যেতে পারে
হঠাৎ করেই যদি আপনার মনে হয় প্যান্ট একটু টাইট
লাগছে, নিজের
ভুঁড়িটা ঠেলে বের হয় আসছে। তাহলে হয়তো অবশ্যয় আপনার
মিষ্টি খাওয়াটা কমানোর প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে চিনিযুক্ত বা কমল পানীয় পান
করার সঙ্গে গভির
সম্পর্কে রয়েছে ওজন বাড়ার।
৮) দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতা বোধ করা
বেহস কিছু গবেষণা বলে চিনি খাওয়ার সঙ্গে মন-মেজাজের-মানসিকতার পরিবর্তনের সম্পর্ক আছে। বেশি চিনি খাওয়া হলে শরীরে ইনফ্লামেশন কয়েকগুন হারে বাড়ে যায়। এর থেকেই সুত্রপাতহয়
বিষণ্ণতার। হোল গ্রেইন জন্মে এমন টাটকা ফল ও সবজি খাদ্যভ্যাস অনুসরণ করলে বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যায়।
এছাড়াও অতিরিক্ত বেশি চিনি
খাওয়ার ফলে অন্যান্য যেসব লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো-
- সব সময়ের
জন্য ক্ষুধা লেগে থাকা
- ঘন ঘন সব সময় ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়া
- মিষ্টি খাবারে চিনি কম হয়েছে মনে করে আরও চিনি যোগ করার প্রবণতা
- প্রতিটি কাজে মনোযোগের অভাব
- ইনসুলিন রেজিস্টেন্স ঠিক থাকা
- লিভার, প্যানক্রিয়াস ও
কিডনিতে সমস্যা থাকার দুরুন
- কম বেশি বাতের ব্যাথা
( পরামর্স সংগৃহিত এবং ডাক্তারের দারা প্রমানিত )
আরও সুন্দর সুন্দর টিপস পেতে পোষ্টটিতে
লাইক দিন এবং শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখুন।
